advertisement
advertisement

গত ১২ ফেব্রয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে—একই বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জনগণের মতামত নেওয়া হয়, আবার নতুন করে গণভোটের প্রয়োজন কেন?


সন্ধ্যা নিউজ | প্রতিবেদক: Md Abu Sayed প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:২৭ পূর্বাহ্ণ
গত ১২ ফেব্রয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে—একই বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জনগণের মতামত নেওয়া হয়, আবার নতুন করে গণভোটের প্রয়োজন কেন?

ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ

advertisement
সরকার সংবিধানের নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে নতুন করে গণভোটের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে। কিন্তু এখানে সবচেয়ে মৌলিক প্রশ্নটি হলো গত ১২ ফেব্রয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে—একই বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জনগণের মতামত নেওয়া হয়, আবার নতুন করে গণভোটের প্রয়োজন কেন?
গণভোটের মূল অর্থ—জনগণের সার্বভৌম রায়ের মর্যাদা—রক্ষা করা। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোটের প্রশ্নে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মত ৩০টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সুতরাং এখন নতুন করে একই বা সংশ্লিষ্ট বিষয় গণভোটে আনার আগে সরকারকে একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে—আগের গণভোটের রায় তাহলে কোথায় দাঁড়িয়ে আছে?
যদি আগের গণরায় কার্যকর ও বহাল থাকে, তাহলে একই বিষয়ে আবার গণভোটের প্রয়োজন কেন? আর যদি সরকার মনে করে আগের গণরায় পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন, তাহলে তার সাংবিধানিক ভিত্তি কী? কোন আইন বা সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেই রায়কে পুনরায় জনগণের সামনে নেওয়া হচ্ছে?
এই প্রশ্নগুলো এড়িয়ে গিয়ে শুধু ‘নতুন গণভোট’ বললেই বিষয়টির সাংবিধানিক বৈধতা প্রতিষ্ঠিত হয় না।
গণভোট কোনো রাজনৈতিক দলের পছন্দ অনুযায়ী বারবার জনগণের কাছে যাওয়ার ব্যবস্থা নয়। গণভোট হলো জনগণের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের একটি বিশেষ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। তাই জনগণ একবার কোনো বিষয়ে রায় দিলে সেই রায়ের মর্যাদা, কার্যকারিতা এবং বাস্তবায়ন—এই তিনটি বিষয় আগে স্পষ্ট করতে হবে।
আমরা সরকারের কাছে তিনটি পরিষ্কার জবাব চাই—
#প্রথমত, আগের গণভোটে জনগণ যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, তার সাংবিধানিক অবস্থান কী?
#দ্বিতীয়ত, সেই গণরায় বাস্তবায়নের পরিবর্তে নতুন করে একই বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গণভোটের প্রয়োজন কেন তৈরি হলো?
#তৃতীয়ত, নতুন গণভোটের সুনির্দিষ্ট সাংবিধানিক ও আইনগত ভিত্তি কী এবং আগের গণরায়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক কী?
সরকার যদি এসব প্রশ্নের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারে, জনগণ অবশ্যই তা বিচার করবে। কিন্তু আগের গণরায়ের সাংবিধানিক অবস্থান অস্পষ্ট রেখে নতুন গণভোটের প্রশ্ন তোলা হলে সেখানে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হবে।
কারণ গণতন্ত্র শুধু ভোট নেওয়ার নাম নয়। গণতন্ত্রের আসল পরীক্ষা হলো—জনগণ ভোট দেওয়ার পর রাষ্ট্র সেই রায়কে কতটা সম্মান করে।
তাই আমাদের বক্তব্য একেবারে পরিষ্কার:
আগে জনগণের রায়—তারপর তার সাংবিধানিক মর্যাদা ও বাস্তবায়ন।
আগের গণরায়কে পাশ কাটিয়ে নতুন গণভোট নয়; আগে ব্যাখ্যা করতে হবে আগের গণরায়ের সাংবিধানিক অবস্থান কী।
জনগণের ভোট কোনো রাজনৈতিক দলের সুবিধা অনুযায়ী গ্রহণ, বর্জন বা পুনর্বিবেচনার বিষয় হতে পারে না। জনগণ যখন কথা বলে, রাষ্ট্রের দায়িত্ব সেই কথার মর্যাদা দেওয়া।
এটাই গণতন্ত্রের মৌলিক শর্ত। এটাই জনগণের সার্বভৌমত্বের অর্থ।
ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
advertisement
advertisement

জাতীয় বিভাগের আরো খবর